Skip to Content

Friday, December 14th, 2018
আলোচনায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড

আলোচনায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড

Be First!
by November 10, 2017 মিডিয়া

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীর হেলেনা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে তথ্য অধিদফতরের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেয়েছেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে। এর কারণ তিনি নিজেই। ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই নারী উদ্যোক্তা উল্লেখ করেন, এই কার্ডের কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি নিজেই জানেন না!

বুধবার (৮ নভেম্বর) পোস্ট করা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ছিল এমন— ‘সময়ের ও ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ আট মাস পর এসে কার্ড নিজ হাতে তুলে নিলাম। নিজে না এলে আসলে কোনও কাজ হয় না, সেটাই আজ প্রমাণিত হলো। তবে এখনও এই কার্ডের কার্যকারিতা সম্পর্কে আমি অবগত নই। কোনও এক শুভাকাঙ্ক্ষী করতে বললো, তাই করলাম। পত্রিকায় প্রতিনিয়ত লেখালেখি করি, বই লিখি। কখনও জানি না কোথায় কী লাগে। কোনটার কী কাজ। আমি ব্যবসায়ী, ব্যবসার কাজ ছাড়া কিছুই বুঝি না।’

এ স্ট্যাটাস দেখে পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বছরের পর বছর সাংবাদিকতা করেও তথ্য অধিদফতরের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড না পাওয়া সাংবাদিকরা কমেন্টে জানতে চান, কিভাবে তিনি এই কার্ডধারী হলেন? প্রশ্নের তোপে তিনি নিজের পোস্ট সম্পাদনা করে লিখেছিলেন, ‘সময়ের ও ব্যস্ততার কারণে এক মাস পর এসে কার্ড নিজ হাতে তুলে নিলাম। ভালো লাগলো। খুব গর্ববোধ করছি।’

.

অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া এই স্ট্যাটাস সরিয়ে ফেলেছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

এরপর সমালোচনার মুখে পড়ে বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১২টার পরে হেলেনা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে পাওয়া অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের ছবিসহ পোস্টটি সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু তার আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন থ্রেডে এখনও চলছে সমলোচনার ঝড়।
প্রবীণ সাংবাদিক কাজী আব্দুল হান্নান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্বাগতম তথ্য মন্ত্রণালয়কে! একজন ব্যবসায়ী ও লেখিকাকে সাংবাদিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়ার জন্য। সাধুবাদ অবশ্যই তাদের পাওনা।’
হেলেনার ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে সাংবাদিক খোরশেদ আলম প্রশ্ন করেন, ব্যবসায়ী হয়ে কিভাবে তিনি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেলেন। প্রতিক্রিয়ায় তিনি তখন বলেন, ‘অনলাইনের কোনও বেল (গ্রহণযোগ্যতা) আছে?’
এদিকে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে বলে জানালেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। একসময় তিনি এই কার্ড দেওয়ার কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “ফ্রিল্যান্সারদের এই কার্ড দিতে কী মানতে হবে নীতিমালায় তাও আছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত তথ্য অধিদফতরের পিআইও’র সভাপতিত্বে যে কমিটি হয় তাতে একজন সাংবাদিক প্রতিনিধিও থাকেন। সেখানে ক্যাটাগরিক্যালি বলা আছে কোন প্রতিষ্ঠান কিসের ভিত্তিতে কয়টি কার্ড পাবে। প্রশ্ন হলো, সেই কমিটি এই ব্যবসায়ীকে কার্ড দেওয়ার যোগ্য মনে করলেন কেন? তিনি তো ব্যবসায়ী। হয়তো এখানে তথ্য বিভ্রান্তি আছে।”
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল আরও বলেন, ‘দেখা যায় গণমাধ্যমের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজনও এই কার্ড নেন। পেশাগত কাজে যারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাবেন এটি তাদের জন্য। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও কিংবা সার্কুলেশন ম্যানেজার সাংবাদিক নন, কিন্তু এটি তাদেরও দেওয়া হচ্ছে। কার্ড দেওয়ার সময় এ দিকটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত ছিল কমিটির।’
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ফেসবুক কমেন্টে লিখেছেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ার জন্য ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের নমুনা যদি এমন হয়, সত্যি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি হিসেবে আমি লজ্জিত।’
হেলেনার অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ায় সমালোচনার খবর গেছে অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বীর কাছে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি পত্রিকায় লেখালেখি করেন, লেখালেখিতে জড়িত এবং পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতাও। সেসব কাগজও দিয়েছেন। এরপরও তিনি এ ধরনের পোস্ট কেন দিলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। যেহেতু তার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে আমরা কার্ডপ্রাপ্তির বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখবো।’

Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

>
Facebook