Skip to Content

Saturday, August 18th, 2018

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে মন্ত্রী-এমপির লড়াই

Be First!
by October 29, 2017 দুর্নীতি

ভুমি প্রতিমন্ত্রী হিসাবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সরকারে আসীন হওয়ার আগে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) চেয়ারম্যান ছিলেন। এর আগে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এবং দেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠি পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

জানা যায়, ‘৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে হাশেম পরিবারের মসনদ তছনছ হয়ে যায়। দৃশ্যপটে চলে আসে বাবু পরিবার। মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু রাতারাতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যান বনে যান। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের সাথে সাথে ব্যাংকটি থেকে বাবু পরিবারের যবনিকা ঘটে। দৃশ্যপটে হাজির হয় হাশেম পরিবার। এরপর বিএনপি সরকারে এম এ হাশেম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুরু হয় ইউসিবিএলে হাশেম পরিবারের একক রাজত্ব। কিন্তু বিএনপি সরকারের বিদায়ের পর হাশেম পরিবার বেকায়দায় পড়ে যায়। সেনা সমর্থিত অন্তর্বতীকালীন সরকারের রোষানলে পড়ে যায় হাশেম পরিবার। এ কারণে ব্যাংকটির উপরও হাশেম পরিবারের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে যায়।

কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে হাশেম পরিবার সবকিছু ম্যানেজ করে নেয়। ইউসিবিএল ব্যাংকের দৃশ্যপটে আবার হাশেম পরিবার ফিরে আসে। তবে মরহুম আখতারুজ্জামান বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী মন্ত্রীত্বে আসীন হওয়ার পর হাশেম পরিবারে আবারও দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে। ব্যাংকটির নেতৃত্বে ফিরে আসে বাবু পরিবার। নেতৃত্ব থেকে আবারও আউট হয়ে যায় হাশেম পরিবার।

সম্প্রতি ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বিক্ষুব্দ হয়ে ব্যাংকটির নানা অনিয়ম তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে সরকারি কার্যাবলি উপেক্ষা করে বোর্ডের প্রতিটি মিটিংয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে সভা পরিচালনা করছেন। তিনি প্রতিদিন তার মন্ত্রণালয় ছেড়ে বিকাল ৩ থেকে ৪টার দিকে আবার কোনো কোনো দিন তার আগেও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এসে চেয়ারম্যানের আসনে বসে ব্যাংক পরিচালনা করছেন। ফলে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রমে অনাকাক্সিক্ষত প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভয়ভীতিতে অস্থির হয়ে পড়ছেন।

ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যানেরঅভিযোগ, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ একতরফাভাবে তার স্ত্রীকে ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান ও তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনিকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন। তার স্ত্রীকে চেয়ারম্যান মনোনীত করার পর থেকে সবকটি বোর্ড মিটিংয়ে চেয়ারম্যানের জন্য নির্দিষ্ট আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে মিটিং পরিচালনা করে আসছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। অন্যদিকে তার স্ত্রী (ব্যাংকটির চেয়ারম্যান) রুকমিলা জামান চৌধুরী বেশ কিছুদিন ধরে সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষর জাল করে বোর্ড মিটিংয়ের স্বাক্ষর বইতে মিটিং পরিচালনা ও মিটিংয়ের ফি উত্তোলন করেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তবে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এ বিষয়ে ভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, এমএ হাসেম এতদিন ব্যাংকটি লুটেপুটে খেয়েছেন। এখন আর খেতে পারছেন না বলে আমার বিরুদ্ধে এসব বলছেন। তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রী ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান। আমার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এ ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। আমার বাবা মরহুম আকতারুজ্জামান বাবু এ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রী হওয়ার আগে আমিও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলাম। তাই এ ব্যাংকে তো আমি যাবই।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত হাশেম পরিবার ও বাবু পরিবারের দ্বন্দ্বের প্রতিযোগিতায় ব্যাংকির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এমনটি এর স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়াও বিভিন্নভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে থাকে মহাবিপদে। দুই পক্ষের সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক রেখে চলতে হয় তাঁদের। এ নিয়ে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলে রসালো নানা আলোচনা-সমালোচনা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিশিষ্ট শিল্পপতি পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাসেম। একই পরিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে পরিচালক হিসেবে ব্যাংকটিতে জড়িত ছিলেন আজিজ আল কায়সার, আজিজ আল মাহমুদ, আজিজ আল মাসুদ, শওকত আজিজ রাসেল ও রুবেল আজিজ।

অন্যদিকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের বাবা মরহুম আক্তারুজ্জামান বাবু ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মৃত্যুর পরে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্যদে আসেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। বর্তমানে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তার (সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ) স্ত্রী রুকমিলা জামান চৌধুরী। এছাড়া নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি।

Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

>
Facebook