Skip to Content

Friday, December 14th, 2018

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য আক্রমণ কৌশলসমূহ

Be First!
by October 29, 2017 রাজনীতি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কি ভাবছেন জানিনা, তবে আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে (অথবা ২০১৯এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর পক্ষ হতে বেশ কিছু কৌশলগত আক্রমণের শিকার হবে। এটা আমার একান্তই ব্যক্তিগত মতামত, কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণা হতে প্রাপ্ত তথ্য নয়, এমনকি কোন সাক্ষাৎকার ভিত্তিক সংবাদও নয়। কেউ এটি পড়তে পারেন, নাও পড়তে পারেন। পড়ে আমলে নিয়ে ভাবতেও পারেন, হেসে উড়িয়েও দিতে পারেন। অলস মস্তিষ্কের উদ্ভট ভাবনা ভেবে ‘ধ্যাত’ বলে উড়িয়ে দিতে পারেন। একান্ত নিজস্ব ভাবনা আমার, কোন পাঠক এর সাথে তার নিজস্ব ভাবনাও মিলিয়ে দেখতে পারেন। কি কি আক্রমণ জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগকে করবে, তার সাথে ভাবা উচিৎ, কেন আক্রমণগুলি করবে।

জামায়াতের আক্রমণ হবে হিংসা প্রশমনের জন্য নয়, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য  স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে সংঘবদ্ধভাবে ৩০০ (বা ২৯৭) আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে, তবে দলীয়ভাবে নয়। পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর ফাসির পর শোক প্রস্তাব নিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও বাংলাদেশের তরুণদের কাছে প্রমাণ করে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্ঘ মাত্র; কোন রাজনৈদিক দল নয়-এ বিষয়টি জামায়াতের বর্তমান প্রৌঢ় ও যুব নেতৃবৃন্দ ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছেন। বিএনপির কাঁধে ভর করে তাঁরা ১৯৯১ সাল হতে প্রচার করছিলো যে, জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের দল নয়-তা গুঁড়িয়ে দিলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটি প্রকাশ্য ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু, বাংলাদেশে এখন ২০১৭ সালে দলটির অস্তিত্ব নেই, এটা ভাবা মারাত্মক ভুল। এ গোষ্ঠীটি প্রকাশ্য থাকা অবস্থায়ও তাদের বিভিন্ন মুখোশধারী বা ছদ্মবেশী ফ্রন্ট ছিলো, যারা দলীয় মিটিং-মিছিলে যেতো না, কিন্তু, দলের নির্দেশে দলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতো। এ কৌশল গোষ্ঠীটি গত দুবছর আপাতঃদৃষ্টিতে নিষ্ক্রিয় থাকা অবস্থায় আরো শক্তিশালী হয়েছে, হচ্ছে ও আগামী দেড় বছরে আরোও শক্তিশালী হবে। কেননা, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করার বারবার ঘোষণা দিয়েও নিষিদ্ধ না করায় দলটির কর্মী, সমর্থকরা নির্দ্বিধায় তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই তারা নানারকম সংবাদ করায় গণমাধ্যমে, “নতুন নামে জামায়াত রাজনীতিতে আসছে”, ”যুদ্ধাপরাধীদের বাদ দিয়ে তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াত আসছে”, এমন রসাত্মক বা মুখরোচক কোন শিরোনামে। দলটির কোন পর্যায়ের কোন নেতা-কর্মীর মনেই বিন্দুমাত্র উদ্বেগ, হতাশার ছাপ নেই, বরং তারা উৎফুল্ল-তাদের ২০১২ হতে ২০১৫ দেশব্যাপী নারকীয় তান্ডবের মামলাগুলির ধীরগতিতে। তাই তারা তাদের নিজস্ব কৌশলে সঠিক পথেই এগুচ্ছে। যা সরকার, প্রশাষন, সরকারি দল, সরকারের সমর্থক ছোট ছোট দল, সরকারের সমর্থক বুদ্ধিজীবি বা গণমাধ্যম কেউই ভাবছেন না এবং ভাবার প্রয়োজন বোধ করছেন না। ১৯৭৮ ও ১৯৮৫ সালের জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠনের মতো করে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে মুসলিম লীগ ও সর্বহারা পার্টির আত্মীকরণের মতো আত্মীকরণ জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কোন সময়ই হবে না। সম্প্রতি তাঁরা তা চ্যালেঞ্জ দিয়েই জানিয়ে দিয়েছে জাতিকে, যদিও তা বোঝার দুরদর্শিতা আমাদের অনেকেরই নেই। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও একাত্তরের চার খলিফার এক খলিফা আ স ম রব এর প্রচেষ্টা ”বিএনপির নেতৃত্বে সরকার তথা আওয়ামী লীগ বিরোধী বৃহত্তর জোট” গঠনের চেষ্টায় জামায়াতের “না” আবার, জামায়াতকে ছাড়তে বিএনপির “না” জামায়াতের চ্যালেঞ্জ প্রকটরুপে স্পষ্ট হলেও আমরা তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছি অনেকেই। বাংলাদেশের জাত শত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান জামায়াতকে নিয়ে যে নির্লজ্জ খেলা ১৯৭২ সালে শুরু করেছে গোলাম আযমের নেতৃত্বে “পূর্ব পাকিস্তান পূণরুদ্ধার কমিটি” গঠনের মধ্য দিয়ে, তার মূলে আমরা কুঠারাঘাত করতে পারিনি-এটা দিবলোকের মতো স্পষ্ট; যদিও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুমুখী হুমকী ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও রায় কার্যকর করেছে; অস্ত্রধারী জঙ্গিদের ২০১৬ এর ভয়াল থাবার চেষ্টার পর জিরো টলারেন্স নীতিতে কার্যকরভাবে জনপ্রত্যাশা অনুযায়িই মোকাবেলা ও দমন করছে। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান এর সৃষ্টি হয়েছিল মার্কিনীদের মদদে ও ইসরায়েলের সহযোগীতায়, তা এখনো বাংলাদেশে অব্যাহত। লাদেন এর পুত্র ওসামাকে সারা বিশ্বে ”ইসলাম রক্ষার বরকন্দাজ” হিসেবে কারা সৃষ্টি করেছিলো, কেন সৃষ্টি করেছিলো, দেরীতে হলেও আমরা কেউ কেউ বুঝেছি, অধিকাংশই এখনো বুঝিনি, যারা ‘লাদেন’ ‘লাদেন’ বলে এখনও চিৎকার করি, ’লাদেন’ কে, আর ’ওসামা’ কে, সেটা না বুঝে। বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে) জামায়াত ১৯৭০ পর্যন্ত্য কার্যত কোন ফ্যাক্টরই ছিলো না, যা তারা হয়েছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বুদ্ধিজীবিদের হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে। বাঙ্গালী জাতির দূর্ভাগ্য এই যে, এই মুখোশ পরা বর্বর হায়েনা গোষ্ঠীটি কিছু পতিত বুদ্ধিজীবির সমর্থন ও আইএসআই-সিআইএ-র অর্থায়নে সৃষ্ট কিছু প্রচলিত গণমাধ্যমে প্রচারণার ফলে আজ এক মহীরুহ। ১৯৮০ হতে মৃদু স্বরে, ২০১২ হতে তারস্বরে তরুণদের চিৎকার “জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ কর” শাষক গোষ্ঠীর অনিচ্ছায় নিষিদ্ধ না হওয়ায় নিখরচায় প্রচারণাও এতে মনিকাঞ্চন যোগ হয়েছে। এমতাবস্থায়, ২০১৭ সালে সবচেয়ে নিরাপদে থাকা জামায়াতে ইসলামী ২০১৮ এর নির্বাচনে অংশ নিবে একান্ত দলীয় সিদ্ধান্তে এককভাবেই, তবে কোন দলীয় প্রতীকে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সবগুলো আসনেই-হয়তোবা কৌশলগত কারনে পার্বত্য তিন জেলার তিনটি আসন বাদ দিয়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নামক জামায়াতের বি-টিমটি অংশ নিচ্ছে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত, যে কথাটি আমি লিখে অসছি গত এক বছর যাবৎ। প্রশ্ন আসে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তো কাউকে না ঘাটানোরই কথা, তবে জামায়াতের স্বতন্ত্ররা আওয়ামী লীগের উপর আক্রমণ কেন করবে? এর উত্তরটি সহজ, জেতা ও কেবলমাত্র জেতার জন্যই আক্রমণগুলি করবে, সূক্ষ্মভাবে, সুকৌশলে-তবে সব আসনে নয়, তাদের বাছাইকৃত যথেষ্ট সংখ্যক আসনে। ধান ভানতে শিবের গীত না গেয়ে মূল প্রসঙ্গে আসি, যা লেখার শিরোনামে রয়েছে।

আওয়ামী লীগের উপর ২০১৮ এর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য আক্রমণ কৌশলসমূহঃ যুদ্ধে ও নির্বাচনে জেতার জন্য সত্যের সাথে মিথ্যা মিশিয়ে প্রচারণা এবং যে কোন কৌশল গ্রহণ জায়েজ বা সিদ্ধ, যুগে যুগে, দেশে দেশে এ অপনীতি বা দুষ্টরীতি প্রচলিত ও ব্যবহৃত। বাংলাদেশেও তা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে শুরু করে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত্য বারবার তা হয়েছে, আওয়ামী লীগ কখনোই উপযুক্ত জবাব দিয়ে তা প্রতিহত করতে পারেনি, এমনকি ২০০৮এও নয়। ”২০০৮ এর নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ব্যালট বিপ্লব করেছিলো, জনগণ”; এ বিষয়ে পরবর্তীতে এক সময় লেখার চেষ্টা করবো আমার পর্যবেক্ষণগুলো। অপপ্রচার ছাড়াও কিছু জঘন্য ও হিংস্র খেলা খেলবে জামায়াত, আওয়ামী লীগের ভিতরে ও বাইরে থেকে। জামায়াত যেসব হিংস্র আক্রমণগুলি করবে সেগুলি হতে পারে নিম্মরূপ:

(১) কোকিল ছানাদের টানাহ্যাঁচড়াতে কাকেদের বিবাদ বাড়বে: “লিডার দল এখন ক্ষমতায়, কিছু কইর্যা নেন, ভবিষ্যতের জন্য”, “টাকা ছাড়া নেতা হওয়া যায় না, টাকা হইলে কর্মীর অভাব হয় না”- ২০০৯ সাল হতে এসব বলেই জামায়াত কর্মীরা ও পেশাদার টাউট-বাটপারেরা আওয়ামী লীগ নেতাদের চরিত্রটি হনন করেছে প্রথমে সুকৌশলে। এরপর আওয়ামী লীগে ঢুকেছে কোকিলের ডিম হয়ে, ছানাগুলি বড় হয়ে স্থান করে নিয়েছে, কিছু কমিটিতে, বিতাড়িত করেছে প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের অধিকাংশ স্থানেই। ২০১৮ এর শুরু হতে এরা বিভিন্ন প্রার্থীকেন্দ্রিক বলয় সৃষ্টি করবে, একই আসনে একাধিক প্রার্থী নিয়ে এরা ক্যাম্পেইন করবে, কোকিলের ডিমে তা দিয়ে ছানা ফুটানো কাকেরা কোনভাবেই আর “আওয়ামী লীগকে জেতাতেই হবে”, ”নৌকার বিজয়ের জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত”, “প্রার্থী যেই হোক, সীটটা (আসনটা) শেখ হাসিনাকে দিতেই হবে” এ ধরনের অমোঘ আওয়ামী বাণীগুলির কথা মনে আনতেই পারবে না। মনোনয়ন দৌড়ে সৃস্ট বিবাদ মেটাবার উপযোগী প্রবীণ গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগারদের সাথে যে কাকেদের কোনই যোগাযোগ নেই গত সাড়ে আট বছরে, আর আগামী দেড় বছরে সেই যোগাযোগ সৃষ্টি হওয়ার কোন আলামতও নেই। এ কথাটি আওয়ামী লীগ নেতাদের জন্য উপহাস বা অপমানজনক, কিন্তু, ছোট তিনটি উদাহরণ দেই, তাতে বড় বড় পদে থাকা আওয়ামী লীগ পরিচয়ধারী নেতাদের প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা ও অবহেলার নজির ফুটে উঠবে। (ক) আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য এখনো জীবিত এবং অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছেন-দলের সাধারন সম্পাদক ছাড়া আর কেউ জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর এই বৃ্দ্ধটিকে দেখতে গেছেন বলে কোন সংবাদ বা ফেসবুক স্ট্যাটাস নজরে আসেনি। অথচ বিষয়টা হতে পারতো, ”জাতির পিতাকে দেখিনি বা জাতির পিতার সাথে আমার কোন ছবি নেই, জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর ও তাঁর মন্ত্রীসভার একজন সদস্য এর সাথে সেলফি তোলার জন্যই না হয় একদিন তাঁকে দেখতে যাই”। কিন্তু, সম্ভাব্য সাংসদ মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বড় পদ প্রত্যাশীদের  কারোরই এ বোধোদয়টুকু হয়নি, যদিও শেখ আব্দুল আজিজ সাহেবের নাম বাংলাদেশের ইতিহাস বা আওয়ামী লীগের ইতিহাস লিখতে গেলে বাদ দেয়া অসম্ভব, কিন্তু, ২০১৭এর আওয়ামী লীগ নেতাদের এ ঐতিহাসিক সত্যটুকু উপলব্ধি করার বোধ নেই বলেই প্রমাণিত। (খ) প্রায়ই ফেসবুকে দেখা যায়, কোন এলাকার কোন তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী তার এলাকার কোন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার, বা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের অথবা ১৯৬১-৭১ বা ১৯৭৫-৯৬ এ চরম ঝুঁকি নিয়ে কোন এলাকায় আওয়ামী লীগ ধরে রেখেছে, এমন কোন নেতা, কর্মী বা সংগঠকের অসুস্থতাজনিত বিষয় বর্ণনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন একের পর এক, কিন্তু এর কোন প্রতিকার তো দূরের কথা, নূন্যতম সমবেদনা জ্ঞাপনকরতঃ একটি কমেন্টও কোন প্রতিষ্ঠিত নেতার পক্ষ হতে নেই। এমন নেতা-কর্মী-সংগঠকদের ১৯৯২ সাল হতে বিভিন্ন সময়ে ঝেঁটিয়ে আওয়ামী লীগের কমিটিগুলি হতে বিদায় করা হয়েছে; ২০১৭এর আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে এরা যেন অপাংক্তেয়। গত কয়েকদিন এমনি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নজরে আসছে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার বামৈ ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও দুর্দিনের আওয়মী লীগ নেতা জনাব গোলাম মওলা লস্কর (আজদু মিয়া) সম্পর্কে; কিন্তু কোন কার্যকর প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ নেই কোন মহল হতেই। (গ) বিভিন্ন সময়ে জিয়া, এরশাদ বা জামাত-বিএনপির শাষণকালে বর্বরতম নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগ কর্মীদের কেউ খোঁজ রাখে না, এর নজির সারাদেশে ভুরি ভুরি রয়েছে। এমনি নির্মমতার শিকার কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা (বর্তমানে কক্সবাজার শহরের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় ভাড়ায় বস্তির ঘরে বসবাসরত) সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক (যাঁকে এখন আড়ালে আবডালে কাকেরা ও কোকিল ছানারা ‘গুজাইয়া মানিক’ বলেন)। এই মানিক সাহেব ছিলেন ডাকসাইটে ছাত্রনেতা, কবি, সাংবাদিক, তরুণ বয়সে বহু তরুণীর স্বপ্নের নায়ক সুদর্শন এক তরুণ, যাকে দুইদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো থানার সিলিং ফ্যানের হুকে, এর আগে পায়ের রগ কেটে ফেলে রাখা হয়েছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গলে। মানিক সাহেবের চিকিৎসার জন্য দরকার মাত্র ২০/২২ লাখ টাকা, তাঁর বহু আবেদন-নিবেদন জায়গা মতো পৌঁছার আগেই হয়তো ছুঁড়ে বা ছিঁড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে। অপারগ হয়ে ক’বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের দিনে তিনি অনশন করেন, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের কেউ কেউ এসে তার অনশণ ভাঙ্গিয়ে ঘরে পাঠায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা পৌঁছার সাথে সাথেই ডিসি সাহেবের কাছে নির্দেশ চলে আসবে, আপনাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে” এমন আশ্বাস দিয়ে। সেই নির্দেশ আজো কক্সবাজার ডিসি সাহেবের কাছে পৌঁছেনি, কেননা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানোই হয়নি যে, “মানিক অসুস্থ”। জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্দিনের ছাত্রলীগার-আওয়ামী লীগারদের নাম মনে রাখার অলৌকিক ক্ষমতা ধারন করেন তাঁর পিতার মতোই, তাই যেন এ নামটি শেখ হাসিনার কানে যেন না যায় সে চেষ্টাটাই বরং প্রকট ছিলো বলে আমার ধারনা। মানিক সাহেব দেশের এক কোণের বাসিন্দা হওয়ায় ইতিহাসের অন্তরালে হারিয়ে গেছেন, কিন্তু, একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার শিকার যে ৫০০ মানুষ শরীরে স্প্লিন্টার নিয়ে ধুকছেন খোদ রাজধানীতে, কেউ কি তাদের খোঁজ রাখেন? মাঝে মাঝেই পত্রিকায় সংবাদ আসে, তাদের অধিকাংশেরই চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে চিকিৎসার জন্য ব্যয়-বরাদ্দ নেয়া হচ্ছে প্রায়ই নানানজনের নামে, নানা রকম বাহারি তদ্বিরে। এই যদি হয়, জনসম্পৃক্ত প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের প্রতি বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতাদের যোগাযোগের নমুনা, তাহলে প্রার্থীতা নিয়ে কাউয়াদের কাইজ্জ্যা মেটানোর উদ্যোগটা নেবে কে বা কারা?

(২) কোকিল ছানারা নিজেরা নৌকা মার্কা চাইবে নৌকাকে ছিন্নভিন্ন করতে নৌকার প্রার্থীর পাশে  ভোটের দিন পর্যন্ত্য মুখোশ পরে থাকতে:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের অনুপ্রবেশকারিরা অধিকাংশ আসনেই সরাসরি নিজে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভের চেষ্টায় আওয়ামী লীগের আবেদন ফরম কিনবে, নানামুখী তদ্বিরও চালাবে-কি কেন্দ্রে কি তৃণমূলে। তৃণমূলে অনেক স্থানেই কোকিল ছানারা ২০১৬ এর ইউপি ও পৌর নির্বাচনে নৌকা কেনা ও দলীয় পদ কেনার সুবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। কোকিল ছানাদের মধ্য হতে জামায়াতের এরুপ টিমটি এ কাজ করবে যত না আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের আশায়, তার চেয়ে বেশি কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা ও তৃণমূলের বর্তমান পদ-পদবীধারীদের নিকট নিজেকে মহা-আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত করানোর প্রচেষ্টায়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার যে কোন পর্যায়ে এরা সুযোগ পেলেই চুড়ান্তভাবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করতে জামায়াতের এ মুখোশধারী টিমটি কাজ করবে। এরা চুড়ান্তভাবে ভোট দেবে ও অনুসারিদের দিয়ে দেওয়াবে জামায়াত মনোনীত স্বতন্ত্র প্রার্থীকেই।

(৩) প্রত্যক্ষ আক্রমণ হবে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করানোর আয়োজনের মাধ্যমে:
আওয়ামী লীগের নবম ও দশম জাতীয় সংসদের অনেক সাংসদের ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য সহ ব্যাঙ্ক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, এমনকি নেতা-কর্মীদের ফোন/মোবাইল নাম্বারের নোটবুকটি পর্যন্ত্য ঘোষিত/অঘোষিত পিএস-এপিএসদের কাছে-যাদের অধিকাংশই জামায়াতের কর্মী বা এজেন্ট। সুতরাং মনোনয়নপত্রে আব্দুল আউয়াল মিন্টু স্টাইলে আক্রমণ, ব্যাঙ্কের লেনদেন যথাসময়ে সম্পন্ন না করে কাগজপত্র সহ হাওয়া হয়ে যাওয়া, ভূয়া ব্যাংক সার্টিফিকেট মনোনয়ন পত্রের সাথে জমা দেয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রস্তাবক-সমর্থকদের ভূয়া স্বাক্ষর দেয়া বা অন্য কোন তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল দেয়া আবার অন্য কাউকে দিয়ে রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়ে দেয়া এহেন বহুবিধ প্রত্যক্ষ আক্রমণের চেষ্টা করবে; যেসব বিষয়ে সতর্ক করার কোন প্রকৃত আওয়ামী লীগার বা প্রকৃত হিতাকাঙ্খী আজ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অধিকাংশেরই পাশে নেই।

(৪) নির্বাচনী প্রচারণায় কিছু ইসমে আযম ও তেলেসমাতির চর্চার মাধ্যমে প্রকৃত আওয়ামী লীগারদের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কাছ থেকে আরো দূরে সরিয়ে রাখা:
গত সাড়ে আট বছরে আওয়ামী লীগের সাংসদ, পদবীধারী ও প্রভাবশালী নেতাদের তদ্বির, সুপারিশে সরকারি ও সরকারি প্রভাবাধীন ব্যবসা, নিয়োগে তদ্বির, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে স্থান করে নেয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য সাংসদ প্রার্থীদের কাছে চলে গেছেন কোকিল ছানারা, এমন ঘটনার সংবাদ প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশ হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব কোকিল ছানারাই নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার সবটুকু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে। যেখানে বেহায়ার মতো হলেও কোন প্রকৃত আওয়ামী লীগার নৌকা প্রাপ্ত প্রার্থীর ধারেকাছেই ভিড়তে পারবে না। আর এরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত এলাকায় না নিয়ে ”অমুক ব্যক্তির কাছে ভোটের বস্তা আছে”, “তমুক বুজুর্গের কাছে জয়ের টিকেট আছে” বলে ভুল ব্যক্তির কাছে বা স্থানে নিয়ে গিয়ে নৌকার প্রাথীর নির্বাচনী প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটাবে ও সময় নষ্ট করাবে।

(৫) নৌকা প্রতীক প্রাপ্ত প্রার্থীর উপর সাইবার আক্রমণঃ
”আমি ভদ্দরণোক, আমি রাজনীতি নীতি নিয়ে কিছু বলি না” টাইপের কিছু ভয়ঙ্কর সাইবার জঙ্গি ও জামাত-শিবির কর্মী খোদ রাজধানী হতে প্রত্যন্ত গ্রামে আছে। এরা ডজন দুই-তিনেক করে মোবাইল সিম, ফেইক ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম সত্য, অতিরঞ্জিত, মিথ্যা তথ্য সংগ্রহ করছে, সাজাচ্ছে, তাদের পুরো নেটওয়ার্কের মধ্যে ছড়িয়ে রাখছে। এগুলি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে প্রকাশ্যে ছড়াবে এক এলাকার বিষয় অন্য এলাকায় বসে। কে, কোথা হতে, কিভাবে, খুঁজতে খুঁজতে নির্বাচনী প্রচারণার সময় পার হবে অনেক দেবতাতুল্য ও দানবতুল্য প্রার্থীকে এলাকা ছেড়ে লুকিয়ে।

২০ বছর সক্রিয় রাজনীতি, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচন খুব কাছে থেকে দেখা, জামায়াতের সামগ্রিক রাজনীতি ও সাইবার যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বোঝার চেষ্টা, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারন মানুষের সাথে পেশাগত প্রয়োজনে মেশার পাশাপাশি চোখ-কান খুলে রাস্তায় চলার সামগ্রিক পর্যবেক্ষণের আলোকে এ মতামত। কেউ বিষয়গুলি আমলে নিয়ে সতর্কতা অবলম্বণ করলে ব্যক্তি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে অধিকতর নিরাপদ থাকবে; জামায়াতী আক্রমণের তীব্রতাও হয়তো কিছুটা কম হবে।

মোঃ মাহমুদ হাসান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষক), ঢাকা

Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

>
Facebook