Skip to Content

Wednesday, November 14th, 2018

ঝিনাইদহের রাজনীতিতে যত সংকট

Be First!
by July 23, 2015 রাজনীতি

দলীয় কোন্দলে জর্জরিত ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ। এ কোন্দল তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কারও কথা শোনে না। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। সভাপতি পদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু এবং সহসভাপতি হয়েছেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম অপু। সম্মেলনের তিন মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এমনকি জেলা সম্মেলনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শৈলকুপা বাদে বাকি পাঁচ উপজেলায় সম্মেলন করা হয়নি। জেলা কমিটি গঠনের পর দলের সিনিয়র নেতারা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তারা স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, প্রশাসন ও টেন্ডার থেকে শুরু করে যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মিন্টুর নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর থানার ওসিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দেন। এ ঘটনায় ওসি বিপ্লবকুমার নাথ তার বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। শুধু জেলা রাজনীতি গ্রুপিংয়ে থেমে নেই। ছয় উপজেলায় দলে দুটি করে গ্রুপ রয়েছে। এদিকে ঝিনাইদহ-২ আসনের (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) রাজনীতিতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। শিল্পপতি ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজীব সিদ্দিকী সমি গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী সমির পক্ষে কাজ করেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম অপুকে পরাজিত করেন। বিজয়ী হওয়ার পর থেকে তার অবস্থান পাকাপোক্ত করতে সচেষ্ট রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী তার সঙ্গে আছেন। শুধু জেলা নয়, উপজেলা পর্যায়েও আওয়ামী লীগে গ্রুপিং প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম অপু অভিযোগ করে জানান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ- দলে কোনো দুর্নীতিবাজ, ধান্দাবাজ, টেন্ডারবাজ, চাল-গম কেনাবেচার অর্থ আদায়কারী ব্যক্তিকে ঠাঁই দেওয়া হবে না। কিন্তু ঝিনাইদহের ক্ষেত্রে হয়েছে ভিন্ন। জেলা কমিটি ঘোষণার আগে আবদুল হাই ও সাইদুল করিম মিন্টু সমর্থিতরা বিশৃঙ্খলা করে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। পরক্ষণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সভাপতি পদে আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক পদে পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টুর নাম ঘোষণা করে যান। সেই থেকে দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করে। এখানে কোনো ভোটাভুটি এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামত নেওয়া হয়নি। এ কমিটি পাস হলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা নিজেদের স্বাধীনমতো সাংগঠনিক কার্যক্রম করতে পারবেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দার ও যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেনের মধ্যে গ্রুপিং রয়েছে। ঝিনাইদহ-৩ আসনের (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর) বর্তমান এমপি অধ্যক্ষ নবী নেওয়াজের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের দা-কুমড়া সম্পর্ক। সেখানেও সংগঠন দুটি গ্রুপে বিভক্ত। ঝিনাইদহ-৪ আসনেও (কালীগঞ্জ) আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ এবং তাদের দুটি গ্রুপ রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনসহ সব কিছুই আনোয়ারুল আজিম আনারের নিয়ন্ত্রণে। ঝিনাইদহ-১ আসন (শৈলকুপা) দুই ভাগে বিভক্ত। এখানে দ্বন্দ্ব বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সোনা শিকদার গ্রুপের সঙ্গে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নায়েব আলি জোয়ার্দ্দারের। গ্রাম পর্যায়েও রয়েছে দুই গ্রুপে বিভক্তি। এ কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গ্রামে গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে অন্তত ২০ কর্মী খুন হয়েছেন।

Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

>
Facebook