Skip to Content

Friday, December 14th, 2018
নাঈম এভ্রিল কি করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’?- প্রশ্ন বিচারকদের

নাঈম এভ্রিল কি করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’?- প্রশ্ন বিচারকদের

Be First!
by October 3, 2017 মিডিয়া

শোবিজ অঙ্গনের কোনও  অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি না হলে যেন অনুষ্ঠানের পরিপূর্ণতা পায় না! বর্তমান সময়ে তারই এক বড় উদাহরণ হল ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’।  অনুষ্ঠানটির ‘গ্র্যান্ড ফিনাল’ নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

অভিযোগ উঠেছে, জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল নামের যে প্রতিযোগীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি নাকি বিচারকদের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না।  আয়োজকের পছন্দেই তাকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা

যায়, বিচারকেরা যাঁকে ভোট দিয়ে প্রথম নির্বাচিত করেছেন, আয়োজকের নির্দেশে তাঁকে দ্বিতীয় ঘোষণা করতে বাধ্য হন উপস্থাপক।  আর প্রথম হিসেবে ঘোষণা করা হয় এভ্রিলকে।

আয়োজকদের এমন কাণ্ডে বিস্মিত হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্র্যান্ড ফিনালের ৬ বিচারক।

এদিকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় বিচারকদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিলো বলে মন্তব্য করেছেন একজন বিচারক।  তিনি জানান, যে প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি আমার পছন্দের তালিকায় ছিলেন না।  এমনকি আয়োজকেরা আমার নম্বর পত্রটি পর্যন্ত দেখেননি।

বাকি পাঁচ বিচারকদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।  ঐ বিচারক বলেন, এমন বাজে অভিজ্ঞতা আমার জীবনে আর হয়নি।  এক কথায় আমি অবাক হয়েছি।  একই অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথেও হতে পারে।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শেষ করে হতভম্ব অবস্থায় বাসায় চলে যান বিচারকরা।  এরপর এই প্রতিযোগিতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিতর্কের ঝড় উঠলে পরের দিন বিচারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।  বিষয়টির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে দু’দিনের মধ্যে এর সমাধান হবে বলে বিচারকদের জানিয়েছেন আয়োজকেরা।  এমনটাই জানিয়েছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ বিচারক।

আয়োজকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ঐ বিচারক বলেন, একবাক্যে আমরা জেসিকা ইসলামকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত করি।  কিন্তু এই চ্যাম্পিয়নের নাম পরিবর্তন হওয়াটা আমাদের জন্য অপমানজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।

নাম ঘোষণার ওই মুহূর্তে ব্যাপারটি নিয়ে সবার সামনে কথা বলা উচিত ছিল বলে মনে করছেন ঐ ক্ষুব্ধ বিচারক।  তিনি বলেন, সেই সময়টিতে এত মানুষের সামনে আমরা আয়োজকদের অপমান করতে চাইনি।

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য তখন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ২৫ হাজার আগ্রহীদের মধ্য থেকে কয়েকটি ধাপে বাছাই করা হয়েছে সেরা ১০ জনকে।

এই ১০ জন হলেন রুকাইয়া জাহান, জান্নাতুল নাঈম, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা দত্ত, ফারহানা জামান, জান্নাতুল হিমি ও জেসিকা ইসলাম।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হলে এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেন তাঁরা।  সেখানেই চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

গ্র্যান্ড ফিনালে বিচারক হিসেবে ছিলেন- অভিনেত্রী শম্পা রেজা, আলোচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, রুবাবা দৌলা মতিন।  অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন শিনা চৌহান।

প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে সমালেচনার মুখে ‘ভুল নাম ঘোষণার জন্য’ এরই মধ্যে বিবৃতি দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট।

এই ঘটনা স্বীকার করে অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী বলেন, দুজনের নাম প্রায় একই হয়ে যাওয়ায় সমস্যাটা হয়েছে।  লাইভ টেলিকাস্টের কারণে আমরা হুট করেই জানতে পারি।  ঠিকঠাক সব চালিয়ে নিলেও মূল নাম উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছেন ভারতীয় উপস্থাপক শিনা চৌহান।  এটাই চূড়ান্ত ফল, এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।  অস্কারের মতো আসরেও এমন ভুল হয়।  আর এ ধরনের ভুলের জন্য আমরাও  ক্ষমাপ্রার্থী।

১৮ নভেম্বর চীনে অনুষ্ঠেয় ৬৭তম বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার মূল আসরে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর চ্যাম্পিয়ন।

এক নজরে বিতর্কিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

বয়স- ২০লেখাপড়া- এলএলবি ২য় বর্ষ

জেলা- চট্টগ্রাম

স্বপ্ন- নিজেকে এমন জায়গায় অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যেখানে মানুষ প্রতিটি কথার মূল্য দেবে।

সামাজিক কর্ম: ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি রক্তদাতা গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত

দক্ষতা- বাইক চালানো, ফটোতে সুন্দর দেখানো, মনমরাদের মন ভালো করে দেয়া, কোনো উপহার এমনভাবে র‌্যাপিং করা যা কেউ খুললেই অবাক হবে, খুব আশ্চর্যজনকভাবে কথা শুরু করা, হঠাৎ করেই কারো সঙ্গে জমিয়ে আলাপকালে কথা বন্ধ করে দেয়া।

শখ- বাইক চালানো, বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা, দাতব্য কাজ

অন্যান্য গুণ- সাঁতার, বোলিং, গান গাওয়া, জিমন্যাস্টিক

পোশাক- আমার সঙ্গে মানিয়ে যায় এমন সব পোশাক

গৃহপালিত পশু প্রেম – আছে, আমার একটি বিড়াল আছে যার নাম অস্কার।  সে অনেক সুন্দর।  আমার সব কষ্ট ভুলে যায় যখন সে আমার কাছে এসে লাফিয়ে কোলের উপর ওঠে।

পছন্দের খাবার- সব ধরনের বাঙালি

মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বাইক চালানো শিখেছেন এভ্রিল।  তাকে বলা হয়ে থাকে নারী বাইক রাইডারদের আইকন।  হাইস্পিড বাইকের প্রতি নারীদের আগ্রহী করতে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের হয়ে কাজ করেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকে বাইকের প্রতি তার ঝোঁক ছিল বলে জানান এভ্রিল।  তিনি বলেন, সিসির ব্যাপারটা বোঝার পর সিবিআর ১৫০ সিসি চালাতে শুরু করেন। ’

হাইস্পিডের মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে পারদর্শিতার জন্য লেডি বাইকার জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে বন্ধুরা ডাকে ‘মাফিয়া গার্ল’!

অনেক ছিনতাইকারী ও ইভটিজারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন এভ্রিল।  তার কথায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মেয়েদের নিজেদেরকেই প্রতিবাদ করতে হয়।  এছাড়া মেয়েদের সাহসী ও অধিকার সচেতন হওয়ার দরকার।  এছাড়া আগামীতে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করতে চান এভ্রিল।

Previous
Next

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

>
Facebook